August 9, 2026, 11:42 am
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ফাইল ফটো
ডিএন২৪ ডেস্কঃ
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূলচেতনা ও অভীষ্টের পরিপন্থী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গ্রেফতারের জন্য সরকারের পূর্বানুমতির বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর কার্যকর করার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আইনটি ‘সকল নাগরিক সমান’ অধিকারের যে সাংবিধানিক বিধান তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক বলে মনে করছে টিআইবি।
তাই দক্ষ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন নিশ্চিত করতে আইনটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ১ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সাধারণ জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক বিধানাবলী রেখে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থী। আইনটি এভাবে কার্যকর হলে বর্তমান সরকারের আমলেই প্রণীত ও বাস্তবায়নরত ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’-এর সঙ্গেও এটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হবে।
তাছাড়া ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের পূর্বে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণের বিধান ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫৪ ধারার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ড. জামান বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ ও অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে’ মর্মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তার প্রতি আমাদের আস্থা অবশ্যই রয়েছে।
তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এবং সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান জনমনে যে প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে, এই আইনটি কার্যকর হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য বলে দাবি ড. ইফতেখারুজ্জামানের।
তার মতে, বিতর্কিত বিধানটি দুদকের কার্যক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব করে সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পর্যবসিত হওয়ার ঝুঁকির সৃষ্টি করবে।
উল্লিখিত বিধানটি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, স্বচ্ছতা, উন্নততর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন নিশ্চিতের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, সরকারি চাকরি আইন নামটিই সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই আইনটির নাম হওয়া উচিত ‘জনপ্রশাসন আইন’।
এ সব বক্তব্য দিয়ে পুনরায় আইনটির নাম সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
টিআইবির নির্বাহী প্রধান আরও উল্লেখ করেন, এ ছাড়া গ্রেফতারের পূর্বে সরকারের অনুমতি গ্রহণের বিধানটি বাস্তবে সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিবর্তে আইনের ছত্রছায়ায় এ ধরনের অপরাধের সুরক্ষা ও এর ব্যাপকতা বাড়ার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে বিধায় তড়িঘড়ি করে আইনটি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে আইনটির পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনের মতামত গ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’তে উল্লিখিত বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিধানাবলী রেখে ২১ অক্টোবর ২০১৮ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়ার প্রেক্ষিতে টিআইবি ২২ অক্টোবর ২০১৮ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনটি পাস না করার জন্য জাতীয় সংসদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিল।
যার ধারাবাহিকতায়, ২৩ জুন ২০১৯ ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার: নীতি ও চর্চা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনের সুপারিশমালায় আইনটির নাম পরিবর্তন করে ‘সরকারি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং উল্লিখিত ‘সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে সরকারের অনুমতি রাখার’ বিধানটি বাতিল করার জোর দাবি জানিয়েছিল।